আমাদের ছোট নদী


by Mamun Kazi

আমার গাঁ এর পাশে এক নদী আছে একা বর্ষায় কোথাও কোথাও আজও দুকূল ভাসায় নাম তার ক্ষীরো নদী, কেমন করে নাম হলো জানি না, অনেকেই তাকে মরা গাঙ বলেই ডাকে, কেউ কেউ নিছক খাল অভিমানীনি কবে গোমতীর সাথে অভিমান করে পথ দিয়ে এসেছে তাও জানি না লোকে বলুক তাকে মরা গাঙ, হয়তো ভরা যৌবন নেই এখন আর! তবু এখনও বর্ষা এলে তাঁর বুকে ভাসে ভালোবাসার নৌকো, গৃষ্মের শুষ্ক দেহে লাগে জলের কোমলতা

শর এলে, আহারে! কচুরি সবুজ জমিনের নদী শাদা পাড়ের শাড়িতে সাজায় নিজেরে, কাশফুলের ঘোমটায় মুখ লুকায় লজ্জাবতী লাজে! প্রেমিক প্রজাপতি আর মৌ লোভী মৌমাছিরা আনন্দে নেচে বেড়ায় তার উপর বহু দূর হতে আমারে সে ডাকে ঈশারায়, আমি ছাই জগত জঞ্জাল নিয়ে মরছি সময় কোথায় দুখিনীর মুখ দেখবো!

আমার মায়ের সাথে সখ্যতা ছিল তার বেশ, মা পরিচয় করিয়ে না দিলে আমিও হয়তো ডাকতামমরাগাঙবলেই! আমাদের বাড়ি থেকে থেকে তার কাছে যেতে হলে বাজারের পরে বিস্তীর্ন এক ফসলের মাঠ পাড়ি দিতে হয় মেঠোপথ ধরে মা নিয়ে যেত হাত ধরে, পথিমধ্যে যে পড়ে ভুতুড়ে আম গাছ টা! কে কবে ফাঁস দিয়ে মরে ভুত হয়ে এখনো ঝুলে থাকে ওই গাছে ভর দুপুরেও একা কেউ পথে পা দেয় না আমার মা সাহস ভীষন! স্কুল থেকে ফিরে তাঁর চোখ রাঙানোর ভয়ে দুপুরে ঘুমুতে গিয়ে যেদিন ঘুম আসতো নাচোখ বুজে খালি এপাশ ওপাশ ফিরতামসেদিন মা কিছুসময় পরে ডেকে বলতেনচল তোর খালার বাড়ি ঘুরে আসি-“, আমিও অপেক্ষায় থাকতাম, এক লাফে বিছানা ছেড়ে সেন্ডেলের খোঁজে না গিয়ে ছুট দিতাম তাঁর আঁচল ধরতে পথে যে ভুতের ভয়! মা গল্প শোনাতেন ভুতেরওকবে ওই ভুত কার ঘার কিভাবে মটকেছে, আর একা একা এই পথে আসলে কি বিপদ হতে পারে সেই গল্প! আনমনে আঁচল ছেড়ে দিলে মা দুষ্টুমি করে দ্রুত হাটতেন, অত ছোট ছোট পা নিয়ে আমি কি হেটে পারি! দৌড়ে গিয়ে ধরতে হত অধিকারের আঁচল এই ঈদের আগেও বাড়ি যেতে পারবো না বলে, আড়ালে সেই আঁচলে, মা হয়তো চোখ মুছবেন! আমি কি ইচ্ছে করে আঁচল ছাড়ি! জীবন বহতা নদী সবসময়তো আর নন্দিনী নয়!

পথে যেতে যেতে কখনো দেখতাম আম গাছে পাকা পাকা অসংখ্য আম ঝুলে আছে, কার সাহস আছেওই গাছে চড়ে আম নেয়! গাছটাও বেহায়া বেশ! তোর কিরে বাপ মরন হয় না! আর এই মধ্যমাঠে যেখানে একটা তালহিজলও জন্মালো না তুই কীনা জন্ম নিয়ে শাখা প্রশাখা মেলে একেবারে রাজ্য দখল করে বসেছিস! বসেছিস তো বেশআশ্রয় দিয়েছিস আবার এক ঘাটের মরা ভুত! নদী কাছে এলেই আমার প্রাণ ফিরে আসতো, মাঝখানে বাঁশের সাঁকো দোলাতে দোলাতে কিছুসময় রূপকুমারীর রূপ দেখে তবেই না খালার বাড়ি যাওয়া ফিরতি পথে একটু আগে ফিরলে তার শাদা শাড়ির আঁচল থেকে কিছু কাশফুলও চেয়ে নেয়া যায়

হেমন্তের পর শীত এলে আমাদের ছোট নদীর প্রাণ চাঞ্চল্য ফুরাতো, শাপলা শালুক ফুরিয়ে গিয়ে খয়েরীসবুজ কচুরীপানা কিছু ভেসে বেড়াতো এদিক ওদিক হাটু জলের নদীতে যখন ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা মাছ ধরায় ব্যস্ত, তখন দেখা মেলতো দড়িটানা নৌকার নৌকার টানে দুই পাড়ে আছড়ে পড়া ঢেউ জানিয়ে যেতবেঁচে আছি, ভীষন রকম বেঁচে আছি

বহুকাল হলো নদীতে আর বর্ষা ছাড়া নৌকা চলে না, উন্নয়ন এসেছে গাঁয়ে, মেঠোপথ ঢেকে দিয়েছে কালো পীচ, বাঁশের সাঁকো গুড়িয়ে দিয়ে তৈরী করা হয়েছে উন্নয়নের ব্রীজ

Advertisements

About tabletmedia
Tablet Media Corp would be the first youth tabloid in Bangladesh to be launched soon. A bunch of young minds gathered to change the form of regular news. Join us today. Just send in a articles, stories or news to yrusending@gmail.com

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: